নিজস্ব প্রতিনিধি, পূর্ব মেদিনীপুর- ফের শিশু কেনাবেচা চক্রের হদিশ। দীঘা কোস্টাল থানা ও দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের তৎপরতায় উদ্ধার করা গেল ৪ দিনের শিশুকে। এগরার নার্সিংহোমের মালিক দম্পতির বিরুদ্ধে শিশু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নার্সিংহোমের মালিক দম্পতি ও ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। প্রায় দু’লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই শিশুকে বিক্রি করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, তবে সামান্য কয়েকটা টাকার জন্য পন্য হিসেবে দেখা হচ্ছে শিশুকে? এই কি তবে সমাজের ‘ট্রেন্ড’?
সূত্রের খবর, গত সোমবার দিঘার স্টেট জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকাকরণের জন্য একটি শিশুকে নিয়ে যায় তার ‘মা’ মর্জিনা বিবি সহ তিনজন। টিকাকরণের আগে শিশুটির জন্মের শংসাপত্র-সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মর্জিনা বিবি তা দেখাতে পারেননি। এমনকি কথা বার্তাতেও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর অবস্থা বেগতিক বুঝে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। শিশুটিকে তুলে দেওয়া হয় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে।
অন্যদিকে হাসপাতালের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় রামনগর থানার দুর্গাপুরের বাসিন্দা মর্জিনা বিবিকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, এগরার একটি বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে ওই শিশুটিকে কিনেছে সে। এরপর নাসিংহোম দম্পতিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গেছে, গিয়াসউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মারফত নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ নিঃসন্তান মর্জিনা বিবিকে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছিলো।
এরপর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে পটাশপুর থানার উত্তর খাড় গ্রামের এক মহিলা ওই শিশুটির মা। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটিকে বিক্রি করার পিছনে শুধুই কি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাত? নাকি রয়েছে পরিবারের ষড়যন্ত্র? সামান্য কয়েকটা টাকার জন্যই কি তাকে বিক্রি করে দেওয়া? যদিও এই ঘটনা নতুন নয়। বাচ্চা বিক্রি করে দামি ফোন কেনার হিড়িক তো আগেও ছিল। এই ঘটনাও কি তবে সেই তালিকাতেই রোগ হতে চলেছে? এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ ইতিমধ্যেই শিশুর আসল মা এবং তার দাদু ও মামাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তবে শিশুটির মাসি দাবি করছেন, আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে। আমার দিদির বাচ্চা প্রসব করানোর জন্য নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ প্রসবের পর বলে তাদের মৃত সন্তান জন্ম হয়েছে । কিন্তু তারা সেই মৃত শিশুকে দেখতে চাইলে ও দেখাতে চায়নি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। শনিবার মাঝ রাতে পুলিশ এসে শিশুটির জীবিত ছিল ও ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আর আমার দিদি বাবা ও দাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা বলছে আমরাও জড়িত আছি। কিন্তু আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে। নার্সিংহোমই শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছে।




