নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা- শিক্ষকরা হলেন সমাজ গঠনের প্রধান কারিগর। একজন শিক্ষকই পারেন তার শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সমাজের কোনায় কোনায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে। আর সেই আলোতে অনেকের জীবনেই আলোকিত হয়ে ওঠে। একদিকে শিক্ষক কখনও বন্ধুর মতো আবার কখনও শক্ত হাতে হাল ধরে আমাদের চলার পথে পাশে থাকেন। আর তাই তাদের সম্মান জানাতে প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর সারা দেশে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। প্রতিটি শিক্ষাক্ষেত্র এইদিন উৎসব মুখর হয়ে ওঠে। কিন্তু এই দিনটিকেই কেন বেছে নেওয়া হল শিক্ষক দিবস হিসেবে? জানেন কি ?
আসলে ১৮৮৮ সালে ৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন শিক্ষাবিদ তথা ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডাঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ। তাঁর স্মরণ করেই এই তারিখটিকে দেশজুড়ে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এই দিনটিকেই কেন বেছে নেবার পিছনে এক ইতিহাস রয়েছে। সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে ১৯৬২ সালে ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এরপর তার ছাত্ররা ৫ সেপ্টেম্বর দিনটিকে বিশেষ ভাবে স্মরনীয় করতে অনুমতি চান। তখন তিনি পরামর্শ দেন ভারতের সব শিক্ষকদের সম্মান জানাতে এই দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হোক। তারপর থেকেই প্রতিবছর এই দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
এই দিনে ভারতের প্রতিটি শিক্ষা ক্ষেত্রে মহা সমারোহ পালিত হয় শিক্ষক দিবস। শিক্ষার্থীরা তাদের গুরুমশাইদের ফুল উপহার সহযোগে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। পাশাপাশি এই দিন সারা ভারত জুড়ে কয়েক শিক্ষককে বেছে নিয়ে তাদের জাতীয় শিক্ষকের মর্যাদা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি তাদের হাতে এই সম্মান তুলে নেন। এবার মোট ৭৫ জনকে এই সম্মান দেওয়া হবে। এই তালিকায় বাংলার তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।




